ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

প্রেমিকাকে অন্য যুবক বিয়ে করায় প্রতিশোধ নিতে অভিনব চক্রান্ত করেছিলেন এক ব্যক্তি। নববিবাহিত ওই যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসাতে পোল্ট্রি ফিডের নমুনার নামে তার ঠিকানায় পাঠানো হয় বিপুল পরিমাণ মাদক। এমনকি পুলিশ যাতে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে, সে জন্য আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে ফাঁস হয়ে যায় পুরো ষড়যন্ত্র। গ্রেপ্তার হন সেই সাবেক প্রেমিকই।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের গান্দারবাল জেলায়। গত ৯ আগস্ট শ্রীনগরের জয়নাকোট এলাকার বাসিন্দা তারিক আহমেদ সোফিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, চলতি মাসের শুরুতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গান্দারবালের প্রধান ডাকঘরে আসা একটি পার্সেল আটক করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পার্সেল খুলে চার কেজি কোকেন, ৮০ গ্রাম ক্যানাবিস ও কিছু সাইকোট্রপিক ড্রাগ উদ্ধার করা হয়। পার্সেলটি উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে পাঠানো হয়েছিল।
পরে পার্সেলের প্রাপকের ঠিকানা ধরে এক পোল্ট্রি খামারির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। কয়েক মাস আগে বিয়ে করা ওই যুবক জানান, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে তাকে পোল্ট্রি ফিডের বিনামূল্যের নমুনা পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। তাই তিনি পার্সেলটির অপেক্ষায় ছিলেন। এর ভেতরে মাদক রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
ওই যুবক পুলিশকে জানান, প্রেরকের একটি সৌদি আরবের মোবাইল নম্বর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে বছরের শুরুতে সৌদি আরবের একটি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে ওই নারীকে বিয়ে না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এরপর যুবকের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, তার সাবেক প্রেমিক তারিক আহমেদ সোফিই এই চক্রান্তের মূলহোতা। ওই নারী অন্য একজনকে বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করা যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন সোফি।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পারে, সোফি নিজের পরিচয় গোপন রেখে অন্যদের মাধ্যমে পুলিশের কাছে মাদকের চালান আসার খবর পৌঁছে দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, কানপুরে থাকা তার বন্ধু অ্যারিব তার নির্দেশে পার্সেলটি কুরিয়ার করে পাঠিয়েছিলেন। অ্যারিব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সোফির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (এনডিপিএস) ৮/২০ ও ২১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এখন অ্যারিব কীভাবে মাদক সংগ্রহ করে পার্সেলটি পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি পুরো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
Posted ২:১৫ এএম | বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।